আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : দুই সপ্তাহ পূর্বে আয়াতুল্লাহ সিস্তানী’র নামে একটি ইমামবাড়ী নির্মাণের সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর, পূনরায় মিশরের উগ্রতাবাদী ওয়াহাবীরা ইমাম হুসাইন (আ.) এর আশুরা অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়ার বাহানা পেয়ে গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সমগ্র মিশর জুড়ে সালাফিদের সাথে সম্পৃক্ত বিভিন্ন সংগঠন ব্যাপকভাবে শিয়া বিরোধী কার্যক্রম শুরু করেছে।
আশুরা অনুষ্ঠানে বাধা দিতে শিয়া অঞ্চলসমূহে সালাফিদের কমিটি গঠন
আল-ওয়াফাদ ওয়েব সাইটের মাধ্যমে দিয়ে জানা গেছে সালাফি জোটসমূহ চলতি বছর মিশরের বিভিন্ন প্রদেশে -বিশেষতঃ যে সকল প্রদেশে অধিক সংখ্যক শিয়া বসবাস করে- বিভিন্ন কমিটি গঠন করে আশুরা পালনে বাধা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।
এ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে সালাফি নেতা এবং ‘সাহাবী ও আহলে বাইত (আ.) এর দৌহিত্রগণ’ নামক জোটের নেতা ‘নাসের রেদ্বওয়ান আয়াতুল্লাহ সিস্তানী’র নামে একটি ইমাম বাড়ী নির্মাণের খবর দিয়ে বলেছিলেন : আমরা শিয়াদের সাথে সম্পৃক্ত কোন অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেব না, চাই তা আশুরার হোক বা আরবাঈনের (চল্লিশা) অথবা অন্য কোন অনুষ্ঠান। কেননা এ সকল অনুষ্ঠান ইসলাম ধর্ম বিরোধী, তাই এক্ষেত্রে মিশর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচিত শিয়াদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া এবং তাদের অনুষ্ঠান পালনে বাধা প্রদান করা।
আলুল বাইত (আ.) সংস্থার চেয়ারম্যান ‘আত-তাহের আল-হাশেমী’ ঐ সালাফি নেতার মন্তব্যের জবাবে বলেছেন : মিশরের জনগণের স্বার্থে তোমাদের মত লোকদেরকে –যারা সাম্প্রদায়িক ফেতনা সৃষ্টির জন্য প্রস্তুত- এদেশের জনগণের মাঝে বিচ্ছেদ সৃষ্টি এবং শত্রুকে সহযোগিতার সুযোগ দেব না।
তিনি মিশরের নিরাপত্তা ও শান্তিরক্ষী বাহিনী কর্তৃক সালাফি এ নেতার কথাকে সমর্থন করার বিষয়ে উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, পূনর্বিবেচনাধীন সংবিধানে শিয়া মাযহাবের অনুসারীসহ এদেশের সকল জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
আশুরার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য আল-আযহার প্রধানের প্রতি আমন্ত্রণ
প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, মিশরের শিয়ারা গত সপ্তাহগুলোতে এদেশের শিয়া ও আহলে বাইত (আ.) এর ভক্তদের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত ঐতিহাসিক রা’সুল হুসাইন (আ.) মসজিদে (مسجد رأس الحسین علیه السلام) ইমাম হুসাইন (আ.) এর পবিত্র শাহাদাত বার্ষিকী পালনের লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এমনকি তারা আল-আযহারের গ্রান্ড মুফতিকে পর্যন্ত এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
কিন্তু সালাফিদের হুমকি এবং সাম্প্রতিক সামরিক অভ্যূত্থানের পর সৃষ্ট মিশরের রাজনৈতিক টানাপোড়নের মাঝে নতুন করে উগ্র ওয়াহাবী সম্প্রদায় কর্তৃক ফেতনা সৃষ্টির সম্ভবনাকে বিবেচনায় রেখে রা’সুল হুসাইন (আ.) মসজিদে ইমাম হুসাইন (আ.) এর আশুরার অনুষ্ঠান পালনের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়েছে।
কায়রোর রা’সুল হুসাইন (আ.) মসজিদে আশুরা পালন না হওয়ার ঘোষণা
আল-ওয়াফাদ ওয়েব সাইট লিখেছে, মিশরের বিশিষ্ট শিয়া ব্যক্তিত্ব ও আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থার সদস্য তাহের আল-হাশেমী, রাসু’ল হুসাইন (আ.) মসজিদে আশুরার অনুষ্ঠান পালনের প্রস্তুতির কথা প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন : আমরা শিয়া ও সুন্নিদের মধ্যকার সংঘাত ও ফেতনা এড়াতে এ অনুষ্ঠান আয়োজন হতে বিরত থাকছি।
মিশরের অপর এক শিয়া ব্যক্তিত্ব ‘আহমাদ রাসেম আন-নাফিস’ এক বিবৃতিতে রাজধানী কায়রোর রা’সুল হুসাইন (আ.) মসজিদে ইমাম হুসাইন (আ.) এর পবিত্র আশুরার অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতির কথা প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন : আশুরা হচ্ছে এমন একটি স্মরণীয় ও বেদনাদায়ক ঘটনা যা মহানবী (স.) এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্রের উপর আরোপিত হয়েছে এবং মুসলিম উম্মাহ’র অন্তরে রেখাপাত করেছে। যাতে মুসলিম উম্মাহ এটা শিখতে পারে যে, কিভাবে অত্যাচারী ও তাগুতী শাসকের বিরুদ্ধে অটল থাকতে হয় এবং ধৈর্য্য ধারণ করতে হয়।
তিনি ঐ বিবৃতি ‘আশুরার দিন ১ লক্ষ শিয়া সমবেত হওয়ার পরিকল্পনা করছে’ -এ শীর্ষক মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেন : আমরা সকল প্রকার সাম্প্রদায়িক ফেতনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে চাই এবং এ বিষয়ে সতর্ক করে দিচ্ছি।
মিশর শিয়া সমাজ কর্তৃক প্রকাশিত বিবৃতিতে মিশরের জনগণের মাঝে বিভেদ ও বিচ্ছেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে জায়নবাদীদের ষড়যন্ত্রের প্রতি ইঙ্গিত করে আল-আযহারের গ্রান্ড মুফতি শেইখ আহমাদ আত-তাইয়্যেবের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে : আশুরা সম্পর্কে কিছু বলুন যে, মহানবী (স.) এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (আ.) এর শাহাদাতের দিন তথা আশুরার দিনটি কি খুশীর দিন নাকি দুঃখ ও বেদনার দিন?
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে : যারা শিয়া মাযহাবের নিদর্শনসমূহ জীবিত থাকার বিষয়ে উদ্বিগ্ন তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই যে, আশুরায় ইমাম হুসাইন (আ.) কে স্মরণ করে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করা হয় –বিশেষভাবে সূরা কাহাফ পাঠ- এবং শুধুমাত্র তাদের ঐতিহাসিক জীবনী ও কারবালার ঘটনাকে স্মরণ করা হয়; এতে মসজিদ, মুসল্লি... কারো প্রতিই অবমাননা করা হয় না। শিয়ারা অন্য মুসলমানদের ন্যায় মসজিদের সম্মানের বিষয়ে অবগত এবং এর প্রতি তারা সম্মান প্রদর্শন করে।